সোরিওসিস (Psoriasis) — সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
সোরিওসিস (Psoriasis) একটি দীর্ঘমেয়াদি ত্বকের প্রদাহজনিত রোগ, যেখানে ত্বকের কোষ খুব দ্রুত বাড়তে থাকে। ফলে ত্বকের ওপর লাল রঙের, মোটা, খসখসে স্কেল তৈরি হয়।
সোরিওসিস কী?
এটি একটি Non-contagious (ছোঁয়াচে নয়) ত্বকের অসুখ। ত্বকের কোষ সাধারণত ২৮ দিন পর বদলানোর কথা, কিন্তু সোরিওসিসে ৩–৪ দিনেই নতুন কোষ তৈরি হয়। তাই ত্বকে জমাট স্কেল দেখা যায়।
কেন হয়?
এটি হওয়ার প্রধান কারণগুলো:
১. জেনেটিক (বংশগত)
পরিবারে কারও থাকলে আপনার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
২. ইমিউন সিস্টেমের সমস্যা
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে ত্বকের কোষকে আক্রমণ করে। ফলে কোষ অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
৩. ট্রিগার বা বাড়ানোর কারণ
যা সোরিওসিস বাড়াতে পারে —
- স্ট্রেস
- ঠান্ডা আবহাওয়া
- ত্বকে ইনজুরি
- সংক্রমণ (যেমন স্ট্রেপ থ্রোট)
- কিছু ওষুধ
- ধূমপান ও অ্যালকোহল
- স্থূলতা
এটি কি ছোঁয়াচে?
না, সোরিওসিস ছোঁয়াচে নয়। স্পর্শে, খাবারে, ঘনিষ্ঠতায় — কোনোভাবেই ছড়ায় না।
চিকিৎসা ও প্রতিকার
সোরিওসিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবে সম্পূর্ণরূপে সারানো সাধারণত কঠিন। কিন্তু নিয়মিত চিকিৎসায় রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
১. বাহ্যিক মলম/ক্রীম
ফ্লুটিকাসন, মোমেটাসন, বেটামেথাসন (স্টেরয়েড ক্রিম), Coal tar, Salicylic acid, Calcipotriol (Vitamin D analogue) ইত্যাদি।
২. শ্যাম্পু (স্কাল্পে হলে)
Ketoconazole, Tar-based shampoo, Salicylic Acid shampoo ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়।
৩. আলো থেরাপি (Phototherapy)
ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে UV থেরাপি কার্যকর হতে পারে।
৪. ট্যাবলেট/ইনজেকশন (Moderate–Severe ক্ষেত্রে)
Methotrexate, Cyclosporine এবং উন্নত ক্ষেত্রে Biologic injections ব্যবহৃত হয়।
৫. দৈনন্দিন যত্ন (খুব জরুরি)
ত্বক সবসময় ময়েশ্চারাইজড রাখুন। সাবান কম ব্যবহার করুন। ঠান্ডা আবহাওয়ায় স্কিন কেয়ার বাড়ান। ধূমপান/অ্যালকোহল বন্ধ করুন। স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করুন এবং ভেজা পোশাক বেশি সময় ধরে রাখবেন না।
বাংলাদেশে কোন মলম ভালো?
সাধারণ ও হালকা সোরিওসিসে ডাক্তাররা অনেক সময় নিচের নামগুলোর মলম দেন —
- Dyvon / Calcipotriol ointment
- Betnovate / Flutivate / Momate
- Diprosalic ointment
কিন্তু কোন মলম আপনার জন্য উপযুক্ত হবে — তা রোগের ধরন ও severity দেখে ডাক্তারই ঠিক করবেন।


0 Comments