মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সবুজের সমারোহ। পাহাড়, টিলা, হাওর-বিল আর বিস্তীর্ণ চা বাগানের মেলবন্ধনে শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর পর্যটন অঞ্চল। বর্ষা মৌসুমে এখানে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত এবং শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, বন্যপ্রাণী ও অতিথি পাখির আবাসস্থল হওয়ায় প্রতিবছর দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন শ্রীমঙ্গলে।
হাইল হাওর
শ্রীমঙ্গলের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হলো হাইল হাওর। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জলাভূমিগুলোর একটি। হাওরের ভেতরে অবস্থিত বাইক্কা বিল পাখিপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। শীতকালে এখানে শতরঙের অতিথি পাখির কোলাহল প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে।
ভাস্কর্য ও জাদুঘর
শ্রীমঙ্গলের প্রবেশপথে অবস্থিত চা-কন্যার ভাস্কর্য চা শিল্পের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। এছাড়া বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও চা জাদুঘর চা শিল্পের ইতিহাস ও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন বহন করে।
দার্জিলিং টিলা
শ্রীমঙ্গলে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৪২টি চা বাগান রয়েছে, যেগুলোই পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন স্থান হলো দার্জিলিং টিলা। টিলার ওপর বিস্তৃত চা বাগান শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্যকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বধ্যভূমি
মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নির্মিত বধ্যভূমি শ্রীমঙ্গলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান। এর চারপাশে গড়ে ওঠা পার্কটি দেশি-বিদেশি পর্যটক ও স্থানীয়দের পদচারণায় সবসময় মুখরিত থাকে।
ডিনস্টন সিমেট্রি
ফিনলে টি কোম্পানির ডিনস্টন চা বাগানে অবস্থিত ডিনস্টন সিমেট্রি শত বছরের ইতিহাস বহন করে। এখানে ৪৬টি বিদেশি কবর রয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ।
নীলকণ্ঠ টি কেবিন
শ্রীমঙ্গলে এসে নীলকণ্ঠ টি কেবিন এ না গেলে ভ্রমণ যেন অপূর্ণ থেকে যায়। এখানে বিখ্যাত সাত রঙের চা পাওয়া যায়, যা পর্যটকদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
চিড়িয়াখানা
ব্যক্তিমালিকানাধীন সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা শ্রীমঙ্গলের আরেকটি আকর্ষণ। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি রয়েছে, যা শিশু ও পরিবারসহ আগত পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দেয়।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
এছাড়াও শ্রীমঙ্গলে রয়েছে গরম টিলা, রাবার বাগান, মণিপুরীপাড়া, উঁচু-নিচু সমতল চা বাগান এবং বাঁশ, বেত, ছন ও মাটির তৈরি দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট।
হোটেল ও রিসোর্ট
শ্রীমঙ্গলে সারাবছরই পর্যটকের ভিড় থাকলেও শীত ও বর্ষা মৌসুমে তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পর্যটকদের জন্য এখানে গড়ে উঠেছে শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট। সময়ভেদে অনেক রিসোর্ট বিশেষ ছাড়ও দিয়ে থাকে।
এখানে পাঁচ তারকা রিসোর্ট থেকে শুরু করে মাটির ঘরের কটেজ পর্যন্ত সব ধরনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে রাধানগর গ্রামে। বাঁশ ও ছনের তৈরি ঘরগুলো পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
রিসোর্টগুলোতে রয়েছে এসি ও নন-এসি রুম, সিঙ্গেল, ডাবল, ফ্যামিলি ও ডিলাক্স রুম। অনেক রুমে ব্যালকনি, প্রাইভেট সুইমিংপুল, টেনিস ও ব্যাডমিন্টন কোর্ট, স্পা, জিম, ক্যাফে এবং শিশুদের খেলার সুবিধা রয়েছে।
এক রাতের থাকার খরচ ন্যূনতম ১,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে সাধারণত ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যেই ভালো মানের কটেজ পাওয়া যায়।
যেভাবে যাবেন
দেশের যেকোনো স্থান থেকে বাসযোগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে নেমে লোকাল বাস বা সিএনজি অটোরিকশায় খুব সহজেই হোটেল ও রিসোর্টে পৌঁছানো সম্ভব।




0 Comments